জিয়ান্দে বাওচা (Jiàndé bāochá, 建德苞茶) — হাংচৌ শহরের জিয়ান্দে (建德市) কাউন্টি-স্তরের শহরের একটি সবুজ চা, চচিয়াং প্রদেশ; পুরনো নাম — ইয়ানচৌ বাওচা (严州苞茶)। রেফারেন্সে একে বলা হয় ‘অর্কিড ধরনের সূক্ষ্ম কোমল সবুজ চা, আধা-ভাজা-আধা-শুকানো’ (兰花型细嫩半烘炒绿茶): কুঁড়ি ও পাতা বৃন্তে থেকে যায় এবং অর্কিড কুঁড়ির মতো আকৃতি নেয় — এখান থেকেই ‘বাওচা’, অর্থাৎ ‘কুঁড়ি চা’। চিং রাজবংশের থুংচি আমলে চাটি তৈরি হয়, ১৯৭৯ সালে পুনরুদ্ধার হয় এবং ২০০৮ সাল থেকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে সংরক্ষিত।
১. শ্রেণিবিভাগ ও উৎপত্তি
- ধরন: সবুজ চা (绿茶, lǜchá), আধা-ভাজা-আধা-শুকানো (半烘炒, bàn hōng chǎo) — রেফারেন্স নিবন্ধ ও জিয়ান্দে রাজনৈতিক পরামর্শক সম্মেলনের প্রতিবেদনে (২০২৪) এই শ্রেণিকে এভাবে বলা হয়েছে।
- অতীতের শ্রেণি: ‘চায়না’ পোর্টালের পর্যটন বিভাগ (中国网, ২০২১) লেখে যে পদ্ধতিটি সিছুয়ানের মেংদিন চা (蒙顶茶) এবং আনহুয়ের হুয়াং ইয়া চা (黄芽茶) থেকে এসেছে এবং মূলত কুঁড়ি চা হলুদ চায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল (原属黄茶); ‘ওয়েনহুই বাও’ (২০২১)-এর পুনর্কথনেও একে হলুদ চা বলা হয়েছে। কবে ও কেন এটি সবুজ চায়ে রূপান্তরিত হলো, সূত্র তা ব্যাখ্যা করে না; বর্তমান প্রযুক্তি বর্ণনায় জড়ান (闷黄, mèn huáng) উল্লেখ নেই।
- বিভাগ: কুঁড়ি-আকৃতির সবুজ চা; ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (২০০৮); কৃষি ভৌগোলিক নির্দেশক (২০২০)।
- উৎপত্তি: চীন, চচিয়াং প্রদেশ (浙江, Zhèjiāng), হাংচৌ শহর (杭州, Hángzhōu), জিয়ান্দে কাউন্টি-স্তরের শহর (建德, Jiàndé)। রেফারেন্স অনুযায়ী চায়ের জন্মস্থান — সানতুর শিয়াওলিপু (小里埠) ঘাট এবং মেইছেং-এর পূর্ব ফটক (梅城东关)।
- সংরক্ষিত অঞ্চল: রেফারেন্স নিবন্ধ অনুযায়ী — নয়টি শহরতলি ও স্ট্রিট কমিটি: সিনআনচিয়াং, ইয়াংসি, কেংলৌ, সিয়াইয়া, ইয়াংছুনছিয়াও, ছিয়ানথান, মেইছেং, সানতু এবং তায়াং। ২০২০ সালের সংবাদমাধ্যমে তাতুং শহরতলিকে (大同镇) কুঁড়ি চায়ের প্রধান অঞ্চল বলা হয়েছে (৭১০০ মিউ বাগান), কিন্তু তালিকায় তা নেই; সূত্র এ বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা করে না। ২০২৫ সালের স্বীকৃতির জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক ক্যাটালগে সমগ্র বর্তমান প্রশাসনিক জিয়ান্দে অঞ্চলকে এলাকা বলা হয়েছে।
- ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক: জিয়ান্দে — প্রায় ২৯.৫° উত্তর অক্ষাংশ এবং ১১৯.৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
২. ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
- ইতিহাস:
- থুংচি আমল। রেফারেন্স নিবন্ধে চায়ের সৃষ্টি থুংচি আমলে (১৮৬২–১৮৭৪) নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘ফেংফাই’ (২০২০) ও ‘চায়না’ পোর্টালের (২০২১) নিবন্ধে — ১৮৭০ সাল। ‘ফেংফাই’ প্রক্রিয়াকরণ কৌশল শিয়াওলিপু ঘাটের বাও (包氏) পরিবারের পিতা ও কন্যাকে আরোপ করে এবং নামের একটি ব্যাখ্যা হিসেবে এটি দেখে; দ্বিতীয়টি হলো — আধানে কান্ডগুলো ফুটতে-প্রস্তুত কুঁড়ির মতো দেখায়। ‘ওয়েনহুই বাও’ (文汇报, ২০২১) পত্রিকা আরেকটি সংস্করণ বর্ণনা করে: শিয়াওলিপুর ব্যবসায়ীরা তখনকার জনপ্রিয় হুয়াংশান মাওফেং-এর (黄山毛峰) অনুকরণ করেছিল, কিন্তু পেল চা যার কান্ডে কুঁড়ি অর্কিড কুঁড়ির মতো, এবং সেটিকে হলুদ চা হিসেবে ধরল; এর নাম দিল শিয়াওলি বাওচা (小里苞茶), পরে ‘শিয়াওলি’ নামটি ব্যবসায়ীদের কাছে খুব সাধারণ মনে হওয়ায় — ইয়ানচৌ বাওচা।
- ১৯৭৯। বিরতির পর উৎপাদন পুনরুদ্ধার করা হয়; রেফারেন্স অনুযায়ী তখনই চাটি ‘建德苞茶’ নাম পায়।
- ১৯৯১। রেফারেন্স অনুযায়ী, মে মাসে হাংচৌ আন্তর্জাতিক চা-সংস্কৃতি উৎসবে — সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চীনের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক চা’ (中国文化名茶); অক্টোবরে ‘হাংচৌ বিখ্যাত চা’, যার মধ্যে এটিও ছিল, ‘স্ফুলিঙ্গ’ (星火) কর্মসূচির অর্জন প্রদর্শনীতে স্বর্ণপদক পায়। ‘ফেংফাই’ দ্বিতীয় পুরস্কারের বদলে পেইচিং চা প্রদর্শনীর স্বর্ণপদকের কথা বলে।
- ৮ মে ২০০৮। গুণমান তত্ত্বাবধান, পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টিনের প্রধান প্রশাসন (国家质检总局) ২০০৮ সালের ৫৬ নম্বর ঘোষণায় চাটিকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে সুরক্ষায় নেয়।
- ২০১০। ‘চুংহুয়া হছুও শিপাও’ (中华合作时报) পত্রিকা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ, প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের প্রথম আদর্শ নমুনা (标准实物样) তৈরি হয়; চীনা কৃষি বিজ্ঞান একাডেমির চা ইনস্টিটিউটের পরীক্ষণ কেন্দ্র এবং রাজ্য চা মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা তা অনুমোদন করেন।
- ২০১৭। ‘ফেংফাই’ অনুযায়ী, নামটি জিয়ান্দে চায়ের সাধারণ ব্র্যান্ড হিসেবে অনুমোদিত হয়। পুনর্কথন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে জিয়ান্দে চা সমিতি ‘建德苞茶’ গ্রুপ মান প্রকাশ করে; এর পাঠ পাওয়া যায়নি, এবং নিবন্ধটি তার ওপর নির্ভর করে না।
- ২০১৯। এপ্রিলে প্রাদেশিক সংবাদমাধ্যম জানায় যে জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্রের চূড়ান্ত মূল্যায়নে এই চায়ের জন্য ১৪টি জলবায়ু সূচকের মধ্যে ১২টি ভালো বলে স্বীকৃত হয়, ভালো মূল্যায়নের গড় হার — ৯৩.৪ %, এবং চাটি দেশের প্রথম চা হিসেবে রাষ্ট্রীয় ‘জলবায়ু মার্কা’ (国家气候标志) পায়। এই প্রতিবেদনে প্রদানের সঠিক তারিখ নেই; ‘চায়না’ পোর্টালের নিবন্ধ (২০২১) ডিসেম্বর ২০১৮ সালের কথা বলে।
- ২৫ ডিসেম্বর ২০২০। কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নামটি কৃষি ভৌগোলিক নির্দেশক হিসেবে নিবন্ধিত করে।
- ২০২২। শহর নির্দেশক সুরক্ষা কর্মসূচি শুরু করে; ভৌগোলিক নির্দেশকসহ কৃষিপণ্য ব্র্যান্ডের সুনাম তালিকায় চাটি — চায়ের মধ্যে ৮৬তম।
- ২০২৫। এপ্রিলে জিয়ান্দে কৃষি ব্যুরো জানায় যে ভৌগোলিক নির্দেশকসহ চা ব্র্যান্ডের প্রাদেশিক সুনাম তালিকায় ২০২৪ সালের জন্য চাটি পরিচিতি সূচকে (感知力) ৮৩০.৯১ পয়েন্ট পেয়ে প্রদেশে অষ্টম স্থান অর্জন করে। রাষ্ট্রীয় মেধাস্বত্ব প্রশাসন ৬৪০ নম্বর ঘোষণায় (১৬ জুলাই স্বাক্ষরিত, ১৩ আগস্ট প্রকাশিত) ১৪০৯টি নামকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, জিয়ান্দে বাওচা তার মধ্যে রয়েছে; ভৌগোলিক নির্দেশক ক্যাটালগ অনুযায়ী এই ঘোষণা ২০০৮ সালের ৫৬ নম্বর ঘোষণাকে প্রতিস্থাপন করেছে। সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত পরিশিষ্ট খোলা যায়নি।
- নাম: ‘জিয়ান্দে’ (建德) — শহরের নাম; ‘বাও’ (苞) — কুঁড়ি; পূর্বনামটি ইয়ানচৌ (严州) অঞ্চলের নামে দেওয়া।
- সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: জিয়ান্দে রাজনৈতিক পরামর্শক সম্মেলনের প্রতিবেদন (২০২৪) অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে জিয়ান্দে বাওচা চা-সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা চচিয়াং কৃষি ঐতিহ্য সম্পদের তালিকাভুক্ত।
৩. উদ্ভিদতাত্ত্বিক বিবরণ ও কাঁচামাল
- গুল্মের জাত অনুযায়ী তিনটি ধারা (২০১৯–২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী):
- চিনবাও (金苞, jīnbāo), ‘সোনালি কুঁড়ি’ — হলুদ পাতার জাত থেকে (黄化)।
- চুয়ানবাও (钻苞, zuànbāo), ‘হীরক কুঁড়ি’ — হালকা পাতার, ‘অ্যালবিনো’ জাত থেকে (白化)।
- ছুইবাও (翠苞, cuìbāo), ‘পান্না কুঁড়ি’ — সাধারণ জাত থেকে: চিউকেং জাত (Jiūkēng), উনিউজাও (Wūniúzǎo), লুংচিং ৪৩ (Lóngjǐng 43) এবং অন্যান্য।
- ২০০৮ সালের প্রয়োজনীয়তায় জাত: «品种选用鸠坑适制良种» — চিউকেং (Jiūkēng) জাত এবং এই প্রযুক্তির জন্য উপযুক্ত উন্নত জাত, রেফারেন্স নিবন্ধের পুনর্কথন অনুযায়ী; প্রাদেশিক সংবাদমাধ্যম (২০১৯) মাঝারি ও ছোট পাতার জাতের কথা বলে।
- সংগ্রহের মান: রেফারেন্স নিবন্ধের পুনর্কথনে ২০০৮ সালের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী — একটি কুঁড়ি ও সবে খোলা একটি পাতা থেকে একটি কুঁড়ি ও দুটি খোলা পাতা পর্যন্ত। জিয়ান্দে কৃষি ব্যুরো (২০২৫) ‘মাছের পাতা’ (鱼叶), আঁশ, বৃন্তের গোড়া (茶蒂), আলাদা পাতা, বেগুনি কুঁড়ি, রোগাক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পাতা বাদ দেয়; ২০০৮ সালের প্রয়োজনীয়তাতেও অনুরূপ নিষেধের তালিকা আছে।
- সংগ্রহের সময়: মার্চের শেষ থেকে মে মাসের শুরু — কৃষি ব্যুরো (২০২৫) অনুযায়ী; ‘ফেংফাই’ (২০২০) মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শুরুর কথা লেখে, ২০০৮ সালের প্রয়োজনীয়তা কেবল বসন্তের কথা বলে।
- মানের শ্রেণি: ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী — ‘নির্বাচিত’, সর্বোচ্চ (特级) এবং প্রথম (一级); ২০০৮ সালের প্রয়োজনীয়তায় সর্বোচ্চ, প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডের বিবরণ আছে।
৪. টেরোয়ার ও চাষের বৈশিষ্ট্য
- অঞ্চল: পশ্চিম হাংচৌ, সিনআনচিয়াং নদীর নিম্ন অববাহিকা।
- চাষের উচ্চতা: ৩০–৫০০ মিটার, পাহাড় ও পাদদেশ — রেফারেন্স নিবন্ধ অনুযায়ী।
- মাটি: হলুদ ও হলুদ-লাল, বরং বালুকাদোআঁশ; জৈব পদার্থ ২.৫–৪.০ %, pH ৫–৫.৬।
- জলবায়ু: গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ১৬.৭ °C, সক্রিয় তাপমাত্রার সমষ্টি ৬১০০–৬১৮০ °C।
- পানি: রেফারেন্স অনুযায়ী, সিনআনচিয়াং ৭০ মিটারের বেশি গভীরতা থেকে ছিয়ানতাওহুর পানি পায়, তাই তা সারা বছর ১৪–১৭ °C থাকে; প্রধান পানির উৎসকে রেফারেন্স রাষ্ট্রীয় প্রথম শ্রেণির বলে উল্লেখ করে।
- আয়তন ও উৎপাদন: প্রাদেশিক সংবাদমাধ্যম (২০১৯) অনুযায়ী, জিয়ান্দেতে ৬৩.৬ হাজার মিউ চা বাগান এবং বছরে ২৮৫০ টন চা উৎপাদিত হয়; রেফারেন্স নিবন্ধে ২০২৩ সালের হিসেবে ৬৩ হাজার মিউ এবং ৬৮০ টন বিখ্যাত চা বলা হয়েছে। এগুলো শহরের সমগ্র চায়ের তথ্য।
৫. উৎপাদন প্রযুক্তি
দুটি পাওয়া বিবরণ প্রক্রিয়াকরণকে ভিন্নভাবে ভাগ করে:
- ২০০৮ সালের সুরক্ষা প্রয়োজনীয়তা (রেফারেন্স নিবন্ধের পুনর্কথনে): ১২০–১৪০ °C কড়াইয়ে নিবারণ (杀青, shāqīng); কড়াই ৯০–১০০ °C-এ ঠান্ডা হলে পাতা না তুলেই মর্দন (揉捻, róuniǎn); একই কড়াইয়ে ৮০–১০০ °C-এ সারিবদ্ধকরণ (理条, lǐtiáo); ৫০–৬৫ °C-এ আকৃতি গঠন (整形, zhěngxíng), এরপর পাতা নামিয়ে ঠান্ডা করা; সুগন্ধের জন্য উত্তপ্তকরণ (提香, tíxiāng) — কড়াই ৮০ °C, তারপর ১১০ °C, যতক্ষণ না ঘন চায়ের সুবাস আসে। সব ধাপ যন্ত্র দিয়ে করা যায়।
- জিয়ান্দে কৃষি ব্যুরো (২০২৫): তাজা পাতা ছড়ানো, মর্দনসহ নিবারণ, প্রথম শুকানো, ঠান্ডা করা, আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনা, পুনরায় শুকানো, চালুনিতে বাছাই।
পাওয়া সূত্রে ধাপগুলোর স্থায়িত্ব নেই। যে জড়ান চাকে হলুদ করে, কোনো বিবরণেই তার উল্লেখ নেই।
৬. ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বৈশিষ্ট্য
সরকারি সূত্র — «月弯条、花苞形、味甘甜»: চাঁদের মতো বাঁকা পাটি, কুঁড়ির আকৃতি, মিষ্টি স্বাদ; রেফারেন্স নিবন্ধে সাধারণ চিহ্ন হিসেবে বলা হয়েছে «月弯条、花苞形、清甜香», অর্থাৎ মিষ্টি স্বাদের বদলে ‘নির্মল মিষ্টি সুবাস’। বিস্তারিত বিবরণে পার্থক্য আছে:
- শুকনো পাতার বাহ্যিক রূপ: ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ গ্রেডের প্রয়োজনীয়তা — সোজা, ঘন, সামান্য চ্যাপ্টা (挺直紧秀略扁), কোমল-সবুজ, স্পষ্ট রূপালি লোমসহ (嫩绿鲜润,银毫显露); ‘চাঁদের মতো বাঁকা’ পাটির সঙ্গে এটি ভালো মেলে না। কৃষি ব্যুরো (২০২৫) — হলুদ-সবুজ, অখণ্ড, ছোট ও পুষ্ট (黄绿完整,短而壮实)। ‘চায়না’ পোর্টালের নিবন্ধ (২০২১) সোনালি-হলুদ মাছের পাতা এবং বৃন্তগোড়ার লালচে রং যোগ করে।
- শুকনো পাতার সুবাস: পাওয়া সূত্রে আলাদা বিবরণ নেই।
- আধানের সুবাস: সূক্ষ্ম, নির্মল ও মিষ্টি (幽香清甜) — রেফারেন্স নিবন্ধ অনুযায়ী; কোমল ও স্থায়ী, নির্মল নোটসহ (嫩香持久富有清香) — ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ গ্রেডের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী; নির্মল ও উচ্চ (清高) — ২০২৫ সালের বিবরণ অনুযায়ী।
- স্বাদ: তাজা ও কোমল, মিষ্টি আফটারটেস্টসহ (鲜醇回甘)।
- আধানের রং: কোমল-সবুজ, উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ (嫩绿明亮、清澈)।
- চায়ের তলানি (ভেজানো পাতা): কোমল, ‘ফুলের’ মতো জমা, অর্কিডের মতো, সমান, কোমল-সবুজ (细嫩成朵,形似兰花匀齐) — ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ গ্রেডের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী; ‘হলুদের সঙ্গে সবুজ’ (绿中呈黄) — ২০২৫ সালের বিবরণ অনুযায়ী। পানিতে ডোবালে কান্ডগুলো বৃন্ত নিচে রেখে ভেসে থাকে: কৃষি ব্যুরোর (২০২৫) ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কান্ডের ভারকেন্দ্র গোড়ার দিকে সরানো, তাই কুঁড়ির ডগা ওপরের দিকে মুখ করে থাকে এবং কান্ডগুলো ফুটতে-প্রস্তুত অর্কিড কুঁড়ির মতো দেখায়।
৭. রাসায়নিক গঠন
রেফারেন্স নিবন্ধে দুটি সূচক-সেট দেওয়া আছে: পণ্যের বিবরণে এবং ২০০৮ সালের সুরক্ষা প্রয়োজনীয়তায়।
| সূচক | পণ্যের বিবরণ | ২০০৮ সালের প্রয়োজনীয়তা |
|---|---|---|
| আর্দ্রতা | ৬.০ %-এর বেশি নয় | ৬.৫ %-এর বেশি নয় |
| মোট ছাই | ৬.৫ %-এর বেশি নয় | ৬.৫ %-এর বেশি নয় |
| পানিতে দ্রবণীয় নির্যাস | ৩৬ %-এর কম নয় | ৩৬ %-এর কম নয় |
| অপরিশোধিত ফাইবার | উল্লেখ নেই | ১৪ %-এর বেশি নয় |
| ধুলো | ১.০ %-এর বেশি নয় | ১.০ %-এর বেশি নয় |
| চায়ের পলিফেনল | ১১ %-এর কম নয় (রেফারেন্স) | উল্লেখ নেই |
| মুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড | ৪ %-এর কম নয় (রেফারেন্স) | ২.০ %-এর কম নয় |
৮. পানীয় প্রস্তুতি
সবুজ চায়ের জন্য শ্রেণির সাধারণ নিয়ম।
- পানির তাপমাত্রা: ৮০–৮৫ °C।
- চায়ের পরিমাণ: ১৫০ মিলিলিটারে ৩ গ্রাম।
- পাত্র: কাচের গ্লাস — এতে দেখা যায় কান্ডগুলো বৃন্ত নিচে রেখে কীভাবে দাঁড়ায়।
- প্রক্রিয়া: ১. গ্লাস গরম করা। ২. চা দেওয়া এবং দেয়াল বরাবর পানি ঢালা। ৩. প্রথম নিষ্কাশন — ৪০–৬০ সেকেন্ড পরে। ৪. কিছু আধান রেখে পানি পুনরায় ভরা; দুই-তিনবার পুনরায় ঢালা।
‘ফেংফাই’ (২০২০) নোটের স্থানীয় পরামর্শ: পানি প্রায় ৮০ °C, ৫০–৬০ মিলিলিটারে ১ গ্রাম চা, গ্লাস বা কাইওয়ান; আধানের দুই-তৃতীয়াংশ পান করে পুনরায় ভরা, সর্বোত্তম — তিনবার ঢালা।
৯. সংরক্ষণ
শ্রেণির সাধারণ নিয়ম। বায়ুরোধী প্যাকেটে, রেফ্রিজারেটরে ০–৫ °C-এ, আলো, আর্দ্রতা ও গন্ধ থেকে দূরে; এক বছরের মধ্যে পান করা উচিত।
১০. দাম ও নকল
২০১৯ সালের প্রাদেশিক সংবাদমাধ্যমে এক চা ব্যবসায়ীর মতে, চিনবাও-এর দাম ছিল প্রতি চিনে (৫০০ গ্রাম) ৫০০০ ইউয়ানের বেশি, চুয়ানবাও — ৩০০০-এর বেশি, ছুইবাও — ৫০০-এর বেশি।
- নকল এড়ানোর উপায়:
- ভৌগোলিক নির্দেশক চিহ্ন এবং আঞ্চলিক ব্র্যান্ডের মার্কিং খোঁজা; উৎপাদককে জিয়ান্দের হতে হবে।
- আকৃতি — ‘কুঁড়ি’: কুঁড়ি ও পাতা বৃন্তে জড়ো করা; চ্যাপ্টা লুংচিং এবং সূচালো চা এর মতো দেখায় না।
- চিনবাও-এর হলুদভাব এবং চুয়ানবাও-এর হালকা পাতা — গুল্মের জাত থেকে আসে, ত্রুটি নয়।
১১. মজার তথ্য
- স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, জিয়ান্দে বাওচা — চীনের প্রথম চা যার রাষ্ট্রীয় ‘জলবায়ু মার্কা’ আছে।
- ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ধারার দামে দশ গুণ পার্থক্য ছিল।
- রেফারেন্স কান্ডকে ‘বৃন্তসহ, গোড়াসহ’ (连柄带蒂) বলে বর্ণনা করে, কিন্তু ২০০৮ ও ২০২৫ উভয়ের সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই বৃন্তের গোড়া বাদ দেয় — রূপের বিবরণ ও কাঁচামালের নিয়ম এখানে ভিন্ন।
১২. অন্যান্য চায়ের সঙ্গে তুলনা
- ছিয়ানতাও ইনচেন (千岛银珍): একই জিয়ান্দের একক কুঁড়ি থেকে তৈরি সূচালো সবুজ চা; বাওচাতে সূচের বদলে কুঁড়ি ও পাতার কুঁড়ি-আকৃতি।
- ছিয়ানতাও ইউ ইয়ে (千岛玉叶): ছিয়ানতাও হ্রদের ছুনআন কাউন্টির সবুজ চা।
- থিয়েনতসুন কুংইয়া (天尊贡芽): থুংলু কাউন্টির সবুজ চা, যার ইতিহাসও ইয়ানচৌ অঞ্চলের ইতিবৃত্তের ওপর নির্ভর করে।
উপসংহারে:
জিয়ান্দে বাওচা — সিনআনচিয়াং নদীর নিম্ন অববাহিকার এক পুরনো চা: কুঁড়ি ও পাতা বৃন্ত থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে অর্কিড কুঁড়ির আকার নেয় এবং গ্লাসে বৃন্ত নিচে রেখে দাঁড়ায়। থুংচি আমলে তৈরি এবং ১৯৭৯ সালে পুনরুদ্ধার করা এই চা জিয়ান্দের সাধারণ ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে, গুল্মের জাত অনুযায়ী তিনটি ধারাসহ ২০০৮ সাল থেকে সুরক্ষা পেয়েছে এবং চায়ের জন্য দেশের প্রথম ‘জলবায়ু মার্কা’ পেয়েছে। সূত্রে রূপের বিবরণে পার্থক্য থাকলেও, সকলের সূত্র এক: বাঁকা পাটি, কুঁড়ির আকৃতি, মিষ্টি স্বাদ।
তথ্যসূত্র
ভৌগোলিক নির্দেশক
পূর্ণ তালিকা — তথ্যসূত্র পাতায়